ট্যাকনিক্যাল দক্ষতার কারণে তাকে ভক্তরা ‘জাপানের মেসি’ নামেই ডেকে থাকেন। স্প্যানিশ লা লিগার দল রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে খেলা উইঙ্গার তাকেফুসা কুবো জাপানের বর্তমান দলটির অন্যতম সেরা তারকা। তাকে ঘিরেই জাপানিরা বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছিলো এবারের বিশ্বকাপে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের। বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে রুখে দেওয়ার দিন হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে যান কুবো। এরপর তাকে সুস্থ করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলো জাপানি টিম ম্যানেজমেন্ট। যে কারণে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। যদিও জাপানের আশা ছিল নকআউটে কুবোকে পাওয়া যাবে।
কিন্তু রাউন্ড অব-৩২ এ ব্রাজিলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কোচ হাজিমে মোরিয়াসু জানিয়ে দিলেন দুঃসংবাদটি। ব্রাজিলের বিপক্ষেও তাকেফুসা কুবোকে পাচ্ছেন না তারা। দলের সঙ্গে হিউস্টনে না গিয়ে ন্যাশভিলেই থাকবেন কুবো।
তবে কুবোর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ছাড়ছে না সামুরাই ব্লুরা। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে হারিয়েই নতুন ইতিহাস লিখতে পারে তার দল।
সোমবার হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য নকআউট ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু নিশ্চিত করেছেন, কুবো এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তাই তাকে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্বকাপে এটি টানা তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে জাপানকে খেলতে হবে ২৪ বছর বয়সী এই প্লেমেকারকে ছাড়াই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে ইনজুরির কারণে বদলি হওয়ার পর থেকে আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালেও দলের সঙ্গে না গিয়ে ন্যাশভিলে থেকেই ব্যক্তিগত পুনর্বাসন কর্মসূচি চালিয়ে গেছেন।
রোববার সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিটেও কুবোকে দেখা যায় মূল দলের বাইরে আলাদা অনুশীলন করতে। দ্রুত দৌড় ও অ্যাজিলিটি ড্রিল করলেও তাকে পুরোপুরি স্বস্তিতে মনে হয়নি।
পরে মোরিয়াসু বলেন, ‘সে এখনও শুধু ব্যক্তিগতভাবে দৌড় ও অনুশীলন করছে। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে সে খেলতে পারবে না। আমরা চাই সে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে ফিরুক, সেও সেটাই চায়।’
আন্ডারডগ হয়েই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন
কুবোকে না পেলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না জাপান কোচ। বরং তিনি মনে করেন, বিশ্ব তাদের অবমূল্যায়ন করলেও সেটাকেই প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছে তার দল। মোরিয়াসু বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল শীর্ষ পর্যায়ের দল, আর জাপান সেই অবস্থানে নেই- এটাই বাস্তবতা। আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই, কিন্তু আগে কখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অনেকেই আমাদের আন্ডারডগ বলবে। আমরা সেটা মেনেই খেলব। প্রতিপক্ষকে সম্মান করব, কিন্তু গত বছরের মতো এবারও আমরা ইতিহাস বদলাতে চাই। তখনও কেউ আমাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখেনি। এবারও আমরা বিশ্বাস করি, আমরা জিততে পারি। পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’
বদলে যাচ্ছে টাইব্রেকারের পরিকল্পনাও
নকআউট ম্যাচ হওয়ায় নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পর ম্যাচ গড়াতে পারে টাইব্রেকারে। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার তিক্ত স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি জাপান।
সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোরিয়াসু। তিনি জানিয়েছেন, টাইব্রেকার হলে কিকারদের আর নিজেরা এগিয়ে এসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।
তার ভাষায়, ‘যদি মনে হয় ম্যাচ টাইব্রেকারে যাবে, তাহলে আমি নিজেই আগে থেকে ঠিক করে দেব কে কোন ক্রমে শট নেবে। আগেরবারের মতো খেলোয়াড়দের স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হবে না।’
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
ব্রাজিলকে হারাতে পারলে জাপানের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে তাদের খেলতে হবে আইভরি কোস্ট কিংবা নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। ওই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুলাই নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানকে অনেকেই আন্ডারডগ হিসেবেই দেখছেন। তবে কুবোকে ছাড়াই গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আসা সামুরাই ব্লুরা বিশ্বাস করছে, এবারও চমক দেখিয়ে তারা ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে তাক লাগাতে পারবে।
আইএইচএস/






