জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই পথচলা থেমে গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার। দলের বাজে পারফরম্যান্সে দেশটির রাষ্ট্রপতি লি-জি মিউং কড়া সমালোচনা করেছেন। এমন অবস্থায় দ্রুতই পদত্যাগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া কোচ হং মিউং-বো।

আর্জেন্টিনা-জর্ডান, আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ দুটি দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে গ্রুপ পর্ব। এই দুই ম্যাচ শেষেই দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রুপ পর্বেই বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। দলের বাজে পারফরম্যান্সে রাষ্ট্রপতি লি-জি মিউং অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন হংকে। বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন লি-জি মিউং। গতকাল মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় এক সংবাদ সম্মেলনে হং বলেন, ‘সবার আগে আমি কোরিয়ান ফুটবলকে ভালোবাসি। জাতীয় দলকে যাঁরা সব সময় সাপোর্ট দিয়ে আসছেন—তাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আজ আমি কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হং। দুই বছরে তাঁর অধীনে দলটি জিতেছে ২০ ম্যাচ। ৯ ম্যাচ ড্র করেছে ও হেরেছে ১৬ ম্যাচ। গতকাল পদত্যাগের সময় হং বলেন, ‘জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য কখনোই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু যেদিন এই দায়িত্ব গ্রহণ করি, সেদিন থেকেই কোনো অজুহাত বা অন্য কোনো কারণের কথা চিন্তা করিনি। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই ছিল আমার কাজ।’

দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বছর ধরে দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বারবারই হং ভেবেছিলেন, যা করতে যাচ্ছেন দলের জন্য তা সঠিক কি না। গতকাল বিদায় বেলায় তিনি বলেন, ‘‘গত দুই বছর ধরে আমি নিজেকে বারবার একই প্রশ্ন করেছি, ‘‘এটি কি কোরিয়ান ফুটবলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত?’ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া, খেলোয়াড় নির্বাচন, অনুশীলনের প্রস্তুতি নেওয়া কিংবা ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি কখনোই সেই প্রশ্নটি মাথা থেকে সরিয়ে রাখিনি। বলছি না যে আমার নেওয়া সিদ্ধান্ত সব সময় সঠিক ছিল।’’

চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে পরের দুই ম্যাচ এশিয়ার দলটি হেরে যায় মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। দুটি ম্যাচেই দক্ষিণ কোরিয়ার হারের ব্যবধান ১-০। তিন পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে তৃতীয় হয়ে শেষ করে দলটি। তবে ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবে যে আট দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের মধ্যে থাকতে পারেনি।