ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ২০২৬ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন।
ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, এমবাপের খেলার ধরনে তিনি নিজের সেরা সময়ের ছায়া দেখতে পান। একই সঙ্গে তিনি আবারও নেইমারের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান তারকা দুর্দান্ত কিছু করে দেখাবেন।
‘মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং এখনও তিনি ম্যাচ নির্ধারণকারী ও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আর এমবাপের খেলার ধরন আমাকে আমার সেরা সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং ফুটবলের কিংবদন্তিদের স্বাভাবিক উত্তরসূরি।’
রোনালদো আরও বলেন, ‘মেসি ও এমবাপে- দুজনই এমন খেলোয়াড়, যারা পরিসংখ্যানের সীমা ছাড়িয়ে যায়। আমার বিশ্বাস, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তাদের নাম থাকা প্রাপ্য।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে ১৫ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখনও রোনালদো।
সাক্ষাৎকারে রোনালদো আবারও নেইমারের প্রশংসা করেন। তিনি নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০০২ বিশ্বকাপের আগে নিজের অবস্থার তুলনা টানেন। সে সময় গুরুতর হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফিরে এসে তিনি ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জেতাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
‘যারা নেইমারের ওপর বিশ্বাস রাখেনি, তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার দারুণ সুযোগ এখন তার সামনে। ২০০২ সালে আমিও এমন এক প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমি পুরোপুরি নেইমারের পক্ষেই আছি।’
বর্তমান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অবস্থা এবং কেন দেশটি আগের মতো এককভাবে শীর্ষ ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হয় না- সেটিও ব্যাখ্যা করেন রোনালদো।
‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার কথা বলছি। এখন পৃথিবীর নানা দেশে অসাধারণ খেলোয়াড় ও শক্তিশালী দল রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ব্রাজিল একক ফেবারিটের মর্যাদা হারিয়েছে, কিন্তু এখনও তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।’
শেষে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং আমাদের সংস্কৃতিতে ফুটবলের গভীর প্রভাবের কারণে জাতীয় দলের প্রতি প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক বেশি থাকে।’ রোনালদো ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন।
আরআর/আইএইচএস








