চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেডে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ১০০টি ব্রেন টিউমার অস্ত্রোপচারের ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্য, টিউমারের ধরন এবং অস্ত্রোপচারের ফলাফল নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০০ রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ পুরুষ ও ৪২ শতাংশ নারী। এছাড়া মোট রোগীর ১৩ শতাংশ ছিল ১৮ বছরের কম বয়সি। রোববার পার্কভিউ হাসপাতালের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘এ মাইলস্টোন অব এক্সিলেন্স’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। ফলাফল উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মু. ইসমাঈল হোসেন।
তিনি বলেন, প্যাথলজিক্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল বিনাইন প্রকৃতির মেনিনজিওমা, যার হার ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ম্যালিগন্যান্ট ও দ্রুত বিস্তারকারী গ্লিওমা শনাক্ত হয়েছে ২৪ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে। বাকি রোগীরা বিভিন্ন জটিল ক্রেনিয়াল ও স্কাল-বেস টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ রোগী মাথাব্যথা, বমি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা এবং খিঁচুনিসহ বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। অস্ত্রোপচারের ফলাফলে দেখা যায়, ৮১ শতাংশ রোগীর টিউমার সম্পূর্ণ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ১৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে নিয়ার-টোটাল রিসেকশন এবং টিউমারের অবস্থান অত্যন্ত জটিল হওয়ায় মাত্র ৪ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আংশিক অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া অপারেশন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ৬২ শতাংশ রোগীর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি, ২৮ শতাংশ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং ১০ শতাংশ রোগীর অবস্থার কিছুটা অবনতি দেখা যায়। এছাড়া ১৮ শতাংশ রোগী সাময়িক জটিলতায় ভুগলেও সামগ্রিক জীবনরক্ষার হার ছিল আশাব্যঞ্জক।
সেমিনারে ডা. মু. ইসমাঈল হোসেন বলেন, এই ১০০টি কেসের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, নিখুঁত প্রি-অপারেটিভ পরিকল্পনা এবং সময়মতো অস্ত্রোপচার রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। তবে দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা এখনো সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার বড় প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ধরে রাখতে ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটার এবং স্বতন্ত্র নিউরোসার্জিক্যাল আইসিইউ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।








