দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এবং আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি নেমে আসবে এমনটি আশা করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “অতিরিক্ত পানির চাপে কক্সবাজারের পেকুয়ার পুরাখালী, পূর্ব বড়ভিটা, পূর্ব মেহেরনামা ও শিলখালী এলাকায় কয়েকটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়রা বাঁধ কেটে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং স্লুইসগেট মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”
তিনি জানান, ১৪ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট স্টেশনে যথাক্রমে ২৬ ও ৬ সেন্টিমিটার, সুরমা নদী সুনামগঞ্জ স্টেশনে ৬ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কমলাকান্দা স্টেশনে ১৩ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি কমে যাওয়ায় নদীর পানি দ্রুত কমছে এবং আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
মন্ত্রী বলেন, “বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১৫০০টি জরুরি প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো এক হাজার প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে।”
তিনি জানান, নদীভাঙন ও বাঁধ রক্ষায় ইতোমধ্যে ৭ লাখের বেশি জিওব্যাগ মাঠে সরবরাহ করা হয়েছে। আরো ৬ লাখ জিওব্যাগ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সিনথেটিক জিওব্যাগও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা সমন্বিতভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, বন্যাকবলিত কিছু এলাকায় সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৫ দিনের চারা দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।








