বৃষ্টির সময় আমাদের দেশে প্রচুর পানি আমরা পেয়ে থাকি। এ–সংক্রান্ত একটা নিউজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে গত শুক্রবার। লেখাটা পড়ে আমি উদ্বুদ্ধ হলাম আমার কিছু কথা বলার জন্য। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, এমন চিন্তা মাথায় আনা উচিত। ভাবতে হবে এই পানি কাজে লাগানোর জন্য।
বৃষ্টির পানি কীভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, তার ওপর কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি কিছু কথা বলতে চাই। কেপটাউনে কোনো টিউবওয়েল বা নলকূপ চোখেই দেখা যায় না। সেখানকার মানুষ ওসব ব্যবহার করে না বললেই চলে। পানি ধরে রাখার জন্য বাড়ির ছাদে ছাদে কোনো পানির ট্যাংকি নাই। কোনো বাড়িতে নিজস্ব মোটর বসানো নেই। তাহলে মানুষ পানি পায় কীভাবে?
কেপটাউন অপেক্ষাকৃত উঁচু। লম্বা খাল আছে, নদীও আছে। সাগর-মহাসাগর, তা–ও আছে। এই খাল বা নদীতে বৃষ্টির পানি মজুত করা হয়। যে বছরে যত বৃষ্টি হবে, ততই পানি মজুত হয়ে থাকে। মজুতকৃত জায়গাকে খাল বা বিল বলে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে ড্যাম্প বলে, সেটা জানি। ড্যাম্পে কতটুকু পানি জমা আছে, তা প্রতিদিন বিভিন্ন পত্রিকা বা প্রচার মাধ্যমে জানান দেওয়া হচ্ছে।
বৃষ্টির পানি নিশ্চয় সরাসরি খুব একটা ব্যবহারের উপযোগী হয় না। পানিকে রিফাইন বা পরিশোধিত করে ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী মেশিন বসানো আছে। সেই মেশিন দিয়ে খাল বা নদীর পানি খাওয়ার বা ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। বিশুদ্ধ পানি, সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতিটি বাসাবাড়িতে। পান করা থেকে শুরু করে সব কাজে পানি ব্যবহার করা যায়। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময়মতো পানি পরিষ্কার করে থাকে। বাসাবাড়িসহ সব পানির লাইন পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে থাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
বৃষ্টির পানি কি নিখুঁতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এতে মাটির নিচের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে না। ক্ষতি হয় না পরিবেশের। বৃষ্টির সময় মজুত করা পানি ব্যবহার করা হচ্ছে সারা বছর।
দেশে এত বড় বড় প্রকল্প, অথচ এমন চিন্তা বা পরিকল্পনার কথা এখন পর্যন্ত শোনা যায় না। নদীর পানি যথাযথ ব্যবহারের উপযোগী করে মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিয়ে পানির নিম্নস্তর সঠিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি। এতে আমরা সব কাজে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করতে পারি।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]







