কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে তার স্বামী। পরে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। গুরুতর আহত গৃহবধূ ইভা আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজল একই উপজেলার বলরামপুর গ্রামের মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রী ইভাকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইভা স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাজল বুড়িচং থানায় এসে দাবি করেন, তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। একই সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, ইভা আক্তার তখনো জীবিত। তার গলায় গভীর ক্ষত, রক্তাক্ত শরীর। তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোরে কাজল তার কাছে এসে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

ইভার বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই কাজল যৌতুকের টাকার জন্য তার বোনকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। শ্বশুরবাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য ঘটনার আগের দিনও তাকে মারধর করা হয়।

বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, কাজলকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।