প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। রোববার দুদফা জানাজা শেষে সংসদ প্রাঙ্গণের পাশের কবরস্থানে তার লাশ সমাহিত করা হয়। আজ সারা দেশে শোক পালন করবে বিএনপি।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন।

বিএনপির এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীদের অনেকে শোক জানাতে তার ধানমন্ডির বাসায় যান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খানও শোক প্রকাশ করেছেন। আরও শোক জানিয়েছেন-জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) ও জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ খসরুজ্জামান। শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চারমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

রোববার বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশ মুখে দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সংসদ-সদস্যরা। জানাজা শেষে সংসদ প্রাঙ্গণের পাশের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

এদিকে জমিরউদ্দিন সরকারের বড় ছেলে সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এক বার্তায় বলেছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় তার বাবার লাশ নিজ এলাকা পঞ্চগড়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জমিরউদ্দিন সরকারের জন্ম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় তিনি যখন গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখনই বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ হয়। আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন জমিরউদ্দিন সরকার। এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে জমিরউদ্দিন সরকারকে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

পঞ্চগড়ে ৩ দিনের শোক : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, রোববার দুপুরে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও মাঠে জমিরউদ্দিন সরকারের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জেলা বিএনপি পঞ্চগড়ে ৩ দিনের শোক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।