চলন্ত পণ্যবোঝাই লরিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সহকারীকে নিজের আসনে বসিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন চালক জামাল উদ্দিন (৫৬)। আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে গাড়ি থামানোর পর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।
নিহতের সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ভোররাত ৩টার দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে পণ্যবোঝাই লরিটি রওনা হয়। পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় সরু সড়কের কারণে লরির গতি কমে গেলে ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে হামলা চালায়।
বেলাল হোসেন বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে লরির সামনের কাচ ভাঙচুর করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক জামাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও চালক তাঁকে লরি থামাতে নিষেধ করেন এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যেতে বলেন।
বেলাল হোসেন আরও জানান, এরপর তিনি চালকের নির্দেশে লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান। কিন্তু পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে তিনি অন্য চালকদের বিষয়টি জানিয়ে লরিটি মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা মামলাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।








