মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, “আত্ম কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ২০০ জন নারীকে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব নারীর মধ্যে মোট ১১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।”
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পাঁচটি ট্রেডে তিন মাস মেয়াদি দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার ২০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্যে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে, যা তাদের কর্মদক্ষতা অর্জন এবং আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে সহায়তা করবে।”
মন্ত্রী জানান, সরকার শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণও প্রদান করা হচ্ছে। মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে এ ঋণ ব্যবহার করা যায়। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মক্ষম, স্বামী-পরিত্যক্ত ও বিধবা নারীরা এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। একজন নারী এককভাবে ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে থাকেন।”
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন নারীর মধ্যে ২০৩ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে একই সময়ে ৭৪ হাজার ৭৮ জন নারীর মধ্যে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজে তাদের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।”








