কোনো দেশ সাড়া না দিলেও চলতি বাজেটেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। তিনি বলেন, ‘‘এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তাপাড়সহ বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ লাঘব হবে। তিস্তা তখন আর অভিশাপ নয়, এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হবে।’’
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি চীন সফর করেছেন, যার প্রধান এজেন্ডাই ছিল তিস্তা মেগা প্রকল্প। সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে পরিষ্কার জানিয়েছেন—দ্রুত সময়ের মধ্যে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
তিস্তা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে এমপি বাবুল বলেন, ‘‘তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন আমরাই করেছি। সেই আন্দোলনের ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলন থেকেই ঘোষণা করা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে এক্সপার্ট টিম তিস্তাপাড় পরিদর্শন করেছে। খুব দ্রুতই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।’’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের আন্দোলন আমরা করেছি এবং করছি, যার সুফল এখন তিস্তাপাড়ের মানুষ পেতে যাচ্ছে। অথচ একটি দল লোক দেখানো আন্দোলনের নামে তিস্তাপাড়ে কর্মসূচি দিয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত হাস্যকর ও জনবিচ্ছিন্ন।’’
এ দিন তিস্তাপাড়ের বন্যাদুর্গত আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার পৃথক স্থানে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল ও শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাসের মো. রাজিব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাজহানুর রহমান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।








