রাজশাহীতে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় মো. শাহীন আলী নামক এক কলেজ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শাহীন রাজশাহী কলেজের ছাত্র এবং রাজশাহী রুকইয়াহ অ্যান্ড হিজামা সেন্টারের পরিচালক। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এজহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) জুম্মার নামাজের পূর্বে শাহ মাখদুম থানা মোড়ে একটি দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেন করতে যান শাহীন। এসময় এক বৃদ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাঁদাদাবি করছে এমন ঘটনা দেখতে পারেন তিনি৷ বৃদ্ধ কর্তৃক দোকানদারকে বিকাশে প্রেরিত ৩০ হাজার টাকা ওই ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দিতে বলেন। এ ঘটনায় শাহীন প্রতিবাদ ও ভিডিও করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আনুমানিক সাতজন তাকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক পেটান। এসময় তার এক লাখ ৫০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেধড়ক পেটানোর ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তৎক্ষণাৎ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷
সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তিনি শাহ মাখদুম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করলেও পরে মামলা নিয়েছে বলে জানান শাহীন। তার দায়েরকৃত মামলা নম্বার হলো- ৫।
মামলার এজাহারে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মন্ডল (আহাদ), যুবদল কর্মী মো. পলাশ, ছাত্রদল কর্মী মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত নামা ৪-৫ নেতাকর্মী আসামি করা হয়েছে।
জানতে চাইলে মারধরে আহত শাহীন আলী বলেন, কোনো অন্যায় করিনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। চোখের সামনে এক বৃদ্ধের কাছে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল। দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র হিসেবে, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে চোখের সামনে ঘটা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নৈতিক দায়িত্ব মনে হয়েছে। এর জন্য মারধর করা হলো। এসময় তিনি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শাকিল মন্ডল আহাদের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চাঁদাবাজির শিকার হওয়া দুলাল মন্ডল। তিনি বলেন, আমাকে ফাঁদে ফেলে মারধর করা হয়েছে। এরপর দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কাছে যা টাকা ছিল তা নিয়ে নিয়েছে। বাড়ি থেকে মেয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা এনে তাদেরকে দিয়ে দ্রুত ওখান থেকে চলে আসি৷ ওরা জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি রেখে দিয়েছে।
শাহ মাখদুম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল আলীম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মারধর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির ঘটনা কেন হয়েছে, কী বিষয় এখনও জানতে পারিনি।
মনির হোসেন মাহিন/এসজেডএইচ/এসআর








