ঢাকার সাভারে পারিবারিক কলহের জেরে মার্জনা বেগম (১৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী ফয়সালকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর শ্বশুরসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
আজ বুধবার সকালে সাভারের উলাইল কর্ণপাড়া এলাকার মসজিদ-সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে মার্জনার মরদেহ উদ্ধার করে সাভার থানার পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মার্জনা বেগম ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় ছয় মাস আগে একই উপজেলার আমিনাবাদ রইদের হাট বাজার এলাকার তৌসির আহমেদের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে কর্ণপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ফয়সাল স্থানীয় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করতেন।
নিহত নারীর মামা মোহাম্মদ মাসুদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তাঁর দাবি, বুধবার ভোর ৪টার দিকে ফয়সাল ওড়না দিয়ে মার্জনার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ঘটনার পর ভোরে মার্জনার শ্বশুর তাঁদের ফোন করে জানান, মার্জনা গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত ওই বাসায় গিয়ে মার্জনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ফয়সালকে আটক করে। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে আজ সাভার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ওই গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।








