শিক্ষক বদলি বাণিজ্য করা, কর্মচারীদের বেতনের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তাঁকে অন্যত্র বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করার খবর ছড়ানোর পর জাহাঙ্গীর আলমের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ সময় একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনার দাবিতে এই অবরোধে যোগ দেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদে শিক্ষা অফিসে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে তাঁদের শান্ত করেন।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীর আলমকে অনতিবিলম্বে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কর্মস্থল থেকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিজেদের টাকা ফেরত পেতে সকাল থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরে শত শত শিক্ষক ও কর্মচারী এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলমকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
শিক্ষক সমিতির ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি শামছুল আলম বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষকের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, ভুয়া নিয়োগে দপ্তরি নিয়োগ ও তাঁদের নামে টাকা উত্তোলন, উপজেলার ২০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ টেন্ডারবিহীন ঠিকাদারদের দেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অতিরিক্ত ঘর নির্মাণের নামে টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নামের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দকৃত টাকা না রেখে তাঁর নিজ অ্যাকাউন্টে রাখা, সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’
শামছুল আলম আরও বলেন, ‘চাকরিচ্যুত জনৈক এক প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী। তাঁদের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ভাঙ্গা উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাঁর দুর্নীতির মাত্রা সীমা অতিক্রম করায় আজ সবাই আন্দোলন করছেন। ইউএনও আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি এর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
সব অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এটি আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত। আমার বদলির সংবাদে কিছু পাওনাদারকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অবরুদ্ধ ও শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলনের সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত উভয় পক্ষকে ডেকে পরিবেশ শান্ত করেছি। শিক্ষা কর্মকর্তার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’








