চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং শঙ্খ নদীর পানি উপচে ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশসহ উপজেলার একাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

বন্যার পানিতে কৃষকদের আউশ ধান, আমন বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান, ৯০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং ৭০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। তবে বন্যায় উপজেলার মোট ৩ হাজার ৯০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মৎস্য খাতেও বড় ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহসান জানান, এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পুকুর ও মাছ চাষের প্রজেক্ট তলিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও মাছের প্রজেক্ট প্লাবিত হয়েছে। এতে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে এবং মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের মধ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনারপাড়া এলাকার আহমদ হোসেনের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন জানান, তার তিনটি পুকুরে থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। একই ইউনিয়নের পলিয়াপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিনের চারটি পুকুরও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দী মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, `পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ১২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।'