লক্ষ্মীপুরে বিতর্কিত এক আওয়ামী লীগ নেতা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। এর আগে বিভিন্নসময় তিনি বিএনপি, জেএসডি ও বিকল্পধারার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অফিস কক্ষে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি সদস্য ফরম পূরণ করেন।

ওই নেতার নাম আক্তার হোসেন মিলন। তিনি কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতা মিলন নানাভাবে বিতর্কিত। একসময় আ স ম আব্দুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) করতেন। পরে মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বিকল্পধারা বাংলাদেশ শেষ করে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর মিলন আত্মগোপনে যায়।

এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি প্রকাশ্যে আসেন। সংসদ নির্বাচনে তিনি নিরবে বিএনপি প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সমর্থন করেন। সবশেষ জামায়াতে যোগ দিয়েছেন এ আওয়ামী লীগ নেতা। বিভিন্ন সময় তিনি ৪ বার হাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু একবারও বিজয়ী হতে পারেননি।

এদিকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অফিসে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড ও প্রকাশ্যে যোগদান অনুষ্ঠান করা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলনগর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা হুমায়ুন কবির, মাওলানা যায়েদ হোসাইন আল ফারুকী, হাজিরহাট হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন ও ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বর নগর দারুচ্ছুনাত আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোসেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা বলেন, মিলন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ বার ভোট করেছেন। একবারও বিজয়ী হননি। তবে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্নদল তাকে ব্যবহার করেছে। এবার মূলত ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার লোভে পড়ে তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

যোগদান করা আক্তার হোসেন মিলন দাবি করেন, একসময় জোর করে পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমাকে আওয়ামী লীগের পদ নিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আমি নিষ্ক্রিয় ছিলাম। এখন আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে চাই।

ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাদরাসার অফিসে একটি দোয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে জামায়াত নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আক্তার হঠাৎ মিলন সেখানে উপস্থিত হয়ে জামায়াত নেতাদের উপস্থিতিতে দলে যোগদান করেন।

কমলনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার কক্ষে রাজনৈতিক দলের যোগ অনুষ্ঠান করার নিয়ম নেই। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস/কেএইচকে/জেআইএম