চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে বন্যার পানিতে বিচ্ছিন্ন একটি জনপদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে প্রকৃতি। চারদিকে থৈথৈ পানি, চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ কলাগাছের তৈরি ভেলায় ভাসিয়ে দূরের কবরস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)। তিনি উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পরপরই পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দাফন নিয়ে চরম সংকটে পড়েন। বাড়ির চারপাশসহ পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় কবরস্থানে যাওয়ার কোনো স্বাভাবিক পথ ছিল না। আশপাশে দাফনের উপযোগী শুকনো বা উঁচু কোনো জায়গাও পাওয়া যায়নি।
পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি কলাগাছ বেঁধে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করেন। সেই ভেলার ওপর মরদেহ রেখে পানির ওপর ভাসিয়ে দূরের একটি কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হন তারা। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন, বান্দরবানে উদ্ধার ৬০০ মানুষ
শুক্রবার দুপুরে কলাগাছের ভেলায় মরদেহ বহনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি বন্যাকবলিত মানুষের অসহায় পরিস্থিতির একটি প্রতীকী চিত্র হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবারের বন্যায় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক, বসতভিটার আঙিনা, কৃষিজমি এবং কবরস্থানসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফোরকানের মৃত্যুর পর আশপাশে দাফনের মতো কোনো উঁচু বা শুকনো স্থান ছিল না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা কলাগাছের ভেলা তৈরি করে অনেক দূরের একটি কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে গিয়ে দাফন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও জরুরি সেবার ঘাটতির কারণে এমন মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নৌযানসহ জরুরি সহায়তা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস








