বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল লুকা মদ্রিচের শেষ ম্যচ ছিল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পর্তুগিজদের উল্লাসে যখন টরন্টো স্টেডিয়াম মুখর, তখন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়কের চোখেমুখে ছিল আরেকটি অপূর্ণ স্বপ্নের হতাশা। ৮মবছর আগে ফাইনাল, এরপর ৪ বছর আগে সেমিফাইনাল, কিন্তু এবার শেষ ষোলোর টিকিটের আগেই থেমে গেল মদ্রিচদের যাত্রা।

অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে। তবে ম্যাচ শেষে রোনালদো সবার আগে ছুটে গেলেন সাবেক ক্লাব সতীর্থ ও বন্ধু মদ্রিচের কাছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুজন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছিলেন অসংখ্য শিরোপা এবং ম্যাচ। অথচ বাস্তবতা কত নিষ্ঠুর, দেশের দায়িত্বে সেই প্রিয় বন্ধুকে হারাতেই দুজনই ছিলেন বদ্ধ পরিকর। তবে সেটা যতক্ষ্ণ বল মাঠে গড়িয়েছে ততক্ষণ। এরপরই রোনালদো পেশাদারিত্বের ছায়া থেকে বের হয়ে এসে আলিঙ্গন করে নিয়েছেন মদ্রিচকে।

  নকআউট পর্বে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন তিনি, আর শেষ পর্যন্ত গনসালো রামোসের যোগ করা সময়ের গোল পর্তুগালকে এনে দিয়েছে ২–১ ব্যবধানের জয়। ফলে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে রবার্তো মার্তিনেজের দল।

ম্যাচের গল্পটা বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। কিছুক্ষণ পর অফসাইডে রোনালদোর একটি গোল বাতিল হলেও পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে রোনালদোর ১১তম গোল।

শেষদিকে গনসালো রামোসের হেডে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় পর্তুগাল। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগেও নাটক বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফিরিয়েছে ভেবে উল্লাসে মেতে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। মুহূর্তেই উৎসব বদলে যায় হতাশায়, আর পর্তুগালের ডাগআউটে শুরু হয় উদ্‌যাপন।

এই পরাজয়ের সঙ্গে শেষ হলো ৪০ বছর বয়সী মদ্রিচের বিশ্বকাপ অধ্যায়। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেননি, তবে বয়স ও সময়ের বাস্তবতা বলছে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডারের বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরার সম্ভাবনা আর নেই।

মদ্রিচের বিশ্বকাপ যাত্রা অবশ্য ইতিহাসেই জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, জিতেছিলেন গোল্ডেন বলও। দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রজন্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু সেই রূপকথার শেষটা হলো তিক্ত এক পরাজয়ে। 

অন্য প্রান্তে গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। ৪১ ছুঁইছুঁই বয়সে এসেও রোনালদো নিজের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখলেন।