ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয়ে চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে পর্তুগাল। এদিন ছিল পর্তুগালের সাবেক ফুটবলার দিয়েগো জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ দলের বাকিরা প্রয়াত জোটা প্রতি সম্মান দেখান। এ সময়ে রোনালদোর চোখে পানিও দেখা যায়।

রোনালদো ইনস্টাগ্রামেও পুরো দলের সঙ্গে জোতার জার্সি হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আমরা জিতেছি আমাদের জন্য, দিয়োগোর জন্য এবং পর্তুগালের জন্য!!! চল এগিয়ে যাই!!!!’

এদিন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। পেনাল্টিতে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। পরে গনসালো রামোসের গোলে লিড নেয় তারা। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১০৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল করেন রেফারি। এমন নাটুকে জয়ের পর রোনালদোসহ পর্তুগালের সবাই স্মরণ করেন প্রয়াত জোটাকে।

ম্যাচের পর মাঠে পুরো দল একসঙ্গে দাঁড়িয়ে জোটার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ওই মুহূর্তের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। নিজের ৭ নম্বর জার্সির বদলে তিনি গায়ে তোলেন জোটার ২১ নম্বর জার্সি। ম্যাচ শেষে সেই জার্সি পরেই সতীর্থকে সম্মান জানান রোনালদো। এমনকি তাকে চোখ মুছতেও দেখা যায় বারবার।

২০২৫ সালের ৩ জুন জোটা এবং তার ভাই আন্দ্রে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিমান ভ্রমণ করতে পারছিলেন না। তাই ইংল্যান্ডে ফেরার জন্য ফেরি ধরতে সড়কপথে যাত্রা করছিলেন।রোনালদোর চোখে জল, জোটাকে স্মরণ করে পর্তুগালের জয় উদযাপন

মৃত্যুর সময় জোটার বয়স ছিল ২৮ বছর। পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল ছিল তার। ২০১৯ সালে প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে খেলার সময় প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান। পর্তুগালের এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই দিয়োগো ও আন্দ্রের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভও স্থাপন করা হয়েছে।

২০২০ সালের গ্রীষ্মে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর জোটার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। ২০২০ ইউরোর (যা ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল) দলে জায়গা পান তিনি এবং গ্রুপ পর্বে জার্মানির বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেন। পরে ২০২৪ ইউরোতেও খেলেছিলেন।

২০২২ সালের শেষ দিকে চোটে পড়ে কাতার বিশ্বকাপ মিস করেন জোটা। বিশ্বকাপে খেলা ছিল তার আজীবনের স্বপ্ন। গত নভেম্বরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড। জোতার দীর্ঘদিনের লিভারপুল সতীর্থ অ্যান্ডি রবার্টসন জানান, পুরো সময়জুড়েই তিনি তার পুরোনো বন্ধুর কথাই ভাবছিলেন।

রবার্টসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সারাদিন আমার বন্ধু দিয়োগো জোটার কথাই মাথায় ঘুরছিল। আমরা অনেকবার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছি। সে পর্তুগালের হয়ে আগের বিশ্বকাপটি মিস করেছিল, আমিও স্কটল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারিনি। আমি জানি, আজ সে আমাকে দেখে হাসছে।’

পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেসের সঙ্গে জোটার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তারা উলভারহ্যাম্পটনে একসঙ্গে খেলেছেন, পাশাপাশি দীর্ঘদিন জাতীয় দলেও সতীর্থ ছিলেন।

নেভেস টুর্নামেন্ট চলাকালে বলেন, ‘রুতে (জোটার স্ত্রী), দিয়োগো আর আমাদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এখনো আছে। সেটি এখনো মুছে ফেলিনি, আমরা এখনো সেখানে কথা বলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ কিছু ঘটলেই আমি হোয়াটসঅ্যাপের সেই কথোপকথনগুলো খুলে দেখি এবং তাকে এখনো বার্তা পাঠাই।’

এসকেডি/এমএএইচ