ভোলার চরফ্যাশন পৌর শহরের ফুটপাত এখন আর পথচারীদের জন্য নেই; তা চলে গেছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দখলে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সড়কের ফুটপাতজুড়ে বছরের পর বছর চলছে অবৈধ বাণিজ্য।ফলে শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুসহ সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রশাসনের বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরানো হলেও স্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা ফুটপাতগুলো উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি ট্যাফনাল ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিআরডিবি চত্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ফুটপাত ব্যবসায়িক মালামালে ঠাসা। কোথাও দোকানের পণ্য, কোথাও নির্মাণসামগ্রী, আবার কোথাও ফুটপাত ও সড়কের ওপরই চলছে স্টিল, লোহা ও আসবাবপত্র তৈরির কাজ। মোটরসাইকেল ধোয়া, গাড়ির ইঞ্জিন মেরামত ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও চলছে সড়কের একাংশ দখল করে।স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী দীর্ঘ দিন ধরে এভাবে ফুটপাত দখল করে আছেন।চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে সড়ক ব্যবহার করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, দখলদারদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ কথা বলার সাহস পায় না।ফুটপাত দখলমুক্ত করার চেষ্টায় ২০২১ সালের ১২ মে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন হামলার শিকার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর দখলদারদের বিরুদ্ধে আর কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি।তবে চরফ্যাশন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় বাজার ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় প্রধান সড়ক থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরানো হয়েছে। শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ তবে প্রশাসনের এমন দাবির সঙ্গে বাস্তবতার মিল সামান্যই। অধিকাংশ ফুটপাত এখনো ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।