প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে হামলা ও ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে এই হামলা হয়। হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এদের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কলেজ গভর্নিং কমিটির সভাপতিসহ ৭ শিক্ষক আহত হয়েছেন। পরে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, একদিকে প্রশ্ন কমন পড়েনি। অপরদিকে পরীক্ষার হলের কক্ষ পরিদর্শকরা রূঢ় আচরণ করেছেন। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে তাদের মাঝে।

ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, প্রশ্নপত্র কিছুটা কঠিন হয়েছে। তার ওপর কক্ষ পরিদর্শকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর পর থেকে কক্ষ পরিদর্শকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। পরীক্ষা শেষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। গেট ভেঙে ফেলে। পাইপ নিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা কক্ষে হামলা করে। শিক্ষক কক্ষে হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে ৪ থেকে ৫শ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা ছিল। ওই কেন্দ্রে সরকারি চরফ্যাশন কলেজের ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছিল। শনিবার ছিল তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষা।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রটিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে পরীক্ষা দিয়ে আসছিল চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। যথারীতি শনিবার সকালে পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। তবে ৩০৪ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রশ্ন তাদের কমন পড়েনি। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। মূলত এর পরপরই পরীক্ষার্থীরা কক্ষের শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা শুরু করে। পরে পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী একত্র হয়ে কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, পরীক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে কলেজের বিভিন্ন সামগ্রী ভেঙেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক নেই।