সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্থায়ীভাবে সর্বনিম্ন ৩৫ বছর এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ীভাবে ৪০ বছর করার দাবিতে সরকারকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শরিফুল হাসান শুভ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ৫ জুলাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করা হয়। ওই কর্মসূচি থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যবস্থা করে পুলিশ প্রশাসন।

শরিফুল হাসান শুভ দাবি করেন, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেন এবং বৈঠক শেষে একটি খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই দেশের চাকরিপ্রত্যাশীরা এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে ২০টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য, কোভিড-১৯ পরবর্তী নিয়োগ স্থবিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, সেশনজট, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, নারী প্রার্থীদের বিশেষ বাস্তবতা, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, বয়সসীমা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্র যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে অভিজ্ঞতা অর্জনকারীদেরও সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে।

সরকারের উদ্দেশে আলটিমেটাম দিয়ে শরিফুল হাসান শুভ বলেন, ‘আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে যদি আমাদের দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তাহলে সারা দেশের চাকরিপ্রত্যাশীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’