বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শুভেচ্ছা মিছিল করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তবে মিছিলে শতাধিক বহিরাগত অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের তুলনায় বহিরাগতদের উপস্থিতিই ছিল বেশি। এতে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, শৈলকূপা, মধুপুর, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, শেখপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদল ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকেও মিছিলে দেখা যায়।
মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তাদের মধ্যে একজন বলেন, “আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছি। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি, তাই শুভেচ্ছা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছি।”
শেরপুর থেকে আসা এক কর্মী বলেন, “আমরা রতন ভাইয়ের ছোট ভাই। রতন ভাই ক্যাম্পাসের ছাত্রদল করেন। আমরা শেরপুর থেকে আসছি।”
মধুপুর থেকে আসা আরেক কর্মী বলেন, “আমি মধুপুর হোদিরন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। বড় ভাইরা ডেকেছেন, তাই আসলাম।”
বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কথা যাদের, তারাই যদি বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা আসছেন। আবেগের জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন। এটাতো আর নিষেধ করা যায় না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে আজকের মিছিলে বহিরাগত প্রবেশ হয়েছে কি না, এ বিষয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলব।”








