দেশীয় মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ফল সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ১৬ প্রজাতির দেশীয় ফল নিয়ে মৌসুমি ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে ফলের অপচয় রোধ ও সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন ভবনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরা হোসেন তানিমের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিকাইল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “তুমি বলো তুমি কী খাও, তাহলে আমি বলে দেব তুমি কেমন মানুষ। একজন মানুষের সুস্বাস্থ্য অনেকাংশে তার খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের আয়োজনের উদ্দেশ্য দেশীয় মৌসুমি ফল সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি। দেশীয় ফল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ফল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে প্রচুর ফল উৎপাদিত হলেও এর বড় একটি অংশ অপচয় হয়। তাই উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অপচয় রোধে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে কলা, টমেটো, পেঁপে, কাঁঠাল ও আনারসসহ বিভিন্ন ফলের প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ফল অপচয় হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি।”

সভাপতির বক্তব্যে এমরান হোসেন তানিম বলেন, “বাংলাদেশের দেশীয় মৌসুমি ফল শুধু আমাদের ঐতিহ্যের অংশ নয়, এগুলো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও জনসচেতনতামূলক এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়া, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. রাশেদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মো. গালিব হাসান এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।