পটুয়াখালীর বাউফলে বিষপ্রয়োগের খাবার খেয়ে অন্তত ২৮টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লালচরে এ ঘটনা ঘটে।
মহিষের রাখাল ও পশুচিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই ঘাস খেয়ে বিষক্রিয়ায় মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। আরও কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মো. মোস্তফা ফকির, মহিষমালিকশত শত মহিষ লালচরের ঘাস খায়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ বছর শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে রেখেছে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা গেছে। বাকি মহিষের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষপ্রয়োগের খাবার খেয়ে মহিষের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যে জেগে ওঠা লালচরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় গবাদিপশুর খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ চরিয়ে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে গরু ও মহিষ হৃষ্টপুষ্ট হয়।
মহিষমালিকদের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ ঘাস খাওয়ানোর জন্য রাখালেরা শতাধিক মহিষ লালচরে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যান। কিন্তু চরের ঘাসে আগে থেকেই দুর্বৃত্তরা বিষপ্রয়োগ করে রাখে। সেই ঘাস খেয়ে ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও রুহুল আমিনের একটি মহিষ মারা গেছে।
লালচরে প্রায় ১৫ বছর ধরে মহিষ পালন করেন চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মো. মোস্তফা ফকির। তিনি বলেন, ‘শত শত মহিষ লালচরের ঘাস খায়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ বছর শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে রেখেছে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








