মেজাজ হারিয়ে নিজের দলের কর্মীকেই চড় মারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।

গত রবিবার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ওই দিনে বারুইপুরে ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন মমতা। পরিস্থিতি আঁচ করে রবিবার সন্ধ্যা থেকেই কালীঘাটের বাসভবনে মমতাকে পুলিশি নজরদারিতে ঘিরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বুধবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে পথে নেমেছিল কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র যুবরা। পথে বিজেপির একটি মিছিল সেখানে ঢুকে পড়ে। ওঠে 'চোর চোর' ধ্বনি। চলে 'মাছ চোর' গান। এর ফলেই অশান্তি শুরু হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে কালীঘাট তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা। 

তৃণমূলের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। এভাবে মিছিলে ঢুকে পড়ার অর্থ আদালত অবমাননা। 

চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মিছিলে শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী। পরে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান কর্মীরা। এসময় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতার বাড়ির সামনেও পরিস্থিতি তেতে ওঠে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে নামেন মমতা। দুই হাতে সবাইকে সরতে ইঙ্গিত করেন। কিন্তু তারপরও চরম বিশৃঙ্খলা চলছিল। ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই সরতে চাননি। ভিড়ের চাপে সেখানেও অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক কর্মী। তাদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তীব্র হয়। এরপরই মেজাজ হারান মমতা।

প্রথমে মাইক হাতে ভিড় সামলাচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় কমলা রঙের টি শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় মমতাকে। 

সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি একজন তৃণমূলকর্মী। এরপর আরো বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠেও থাপ্পর মারতে দেখা যায় মমতাকে। তবে কী কারণে তিনি এভাবে চড়াও হলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, মনে করা হচ্ছে, ভিড় সামলাতে গিয়েই এভাবে মেজাজ হারিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “হেরে গিয়ে মানসিক স্থিরতা হারিয়ে ফেলছেন মমতা। এসব দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মানসিক স্থিরতা ঠিক নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।”

বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। বারুইপুরের ‘দাঙ্গাকারীদের’ প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করেন মমতা।

তিনি বলেন, “হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে এই মিছিল হচ্ছে। কিন্তু, বিজেপির গুণ্ডারা আমার বাড়িতে সকালে এসে চিৎকার করে আমাকে ভয় দেখিয়েছে। সকলেই জানি এই সরকার কীভাবে তৈরি হল। ভালো করে সরকারটা চালাও। তা নয় ,আমাদের কোথাও যেতে দিচ্ছে না। হাউস অ্যারেস্ট করেছে। নজরদারি চালাচ্ছে। কিন্তু, মেয়েদের কোনো সুরক্ষা দিতে পারছে না পুলিশ। ভাড়াটে গুণ্ডারা লুম্পেনগিরি করেছে। ছেলে-মেয়ে সকলকে মারা হয়েছে। এই পরিবর্তন কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল? তা সত্ত্বেও মিছিল হল। আমাদের হ্যান্ড মাইকের পারমিশন ছিল, সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ।”

মমতা ব্যানার্জির দাবি, “হাইকোর্টের রায় মেনে পুলিশ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এটা আদালত অবমাননা। আমরা এর ধিক্কার জানাই। দু'মাসের মধ্য়ে ১৪ জন মহিলা নিগৃহীত। সরকারের কাছে আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন।”