বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামে বেড়েছে মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ভারি বর্ষণে খেত নষ্ট হওয়ায় সবজির দামও আকাশচুম্বী। কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টির কারণে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডিম, সবজির দামও অনেক বেড়েছে। ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে অধিকাংশ সবজি দামে সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। এছাড়া বেড়েছে চালের দামও।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, মাছ-মাংসসহ বেশির ভাগ দ্রব্যমূল্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। বন্যার অজুহাতে এখন বলতে গেলে সবজির বাজারে আগুন। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজিই নেই। একমাত্র কাঁচা পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই ৮০ টাকার উপরে। করলা, বেগুন ও টমেটোর দাম দেড়শ ছুঁইছুঁই।
নগরীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগি মানভেদে প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর দাম ছিল ৩২০ টাকা কেজি। বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০, শসা ১৬০ থেকে ১৮০, করলা ৮০ থেকে ১০০, পটোল ৮০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ১০০ থেকে ১২০, টমেটো ১৬০, ঝিঙ্গা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপে আগের মতোই ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজেটে আদা-রসুনসহ ৬০ পণ্যের দাম কমাতে শুল্ক কমানো হলেও বাজারে তার ছিটেফোঁটা প্রভাব পড়েনি। বরং আগে আদা কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১৩০০ ও এলাচ ৫১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫১-৫২ টাকা ছিল তা এখন ৫৬-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারিমানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাঝারিমানের চালের। কেজিপ্রতি মাঝারিমানের চালের দাম ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮২ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারিমানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। ভারি বর্ষণের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামে মাছের বাজারেও। তেলাপিয়া আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। রুই, কাতল ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোয়া বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি। লইট্যা ২০০ থেকে ২২০ টাকা, ফাইস্যা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কোরাল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচান্দা ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা, এক কেজির কিছু কম ওজনের ইলিশ ১৮০০-২০০০ টাকা এবং জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়।





