চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল ডট নেট’  (ডিডিএন) এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর এ হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বুধবার বিকালে এক প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় চকবাজার থানা পুলিশ, সিএমপির একাধিক দল এবং র‍্যাব-৭ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে নিজেকে ‘ডেবিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ডিডিএনের মালিককে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। প্রতিষ্ঠানের মালিক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চকবাজার থানার চন্দনপুরা, বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, কাচের দরজাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 

মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের একটি কাঁধব্যাগ নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় চকবাজার থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মানবপাচার, মাদক ও ছিনতাইসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, চোরাচালান ও দ্রুত বিচার আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস দমন ও মারামারির ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র, মাদক ও মারামারির ছয়টি এবং মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মারামারির সাতটি মামলা রয়েছে। মো. নয়নের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও চুরির আটটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আটজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।