ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, যেখানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এছাড়া বাঁশখালীতে সাড়ে ৬ হাজার, আনোয়ারায় ২ হাজার ২০০, কর্ণফুলীতে ৩০০ এবং রাঙ্গুনিয়ায় ৩০০ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন আংশিক জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। হাটহাজারীর কয়েকটি ইউনিয়নসহ সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালীর অনেক এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

চার দিনের বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত মিরসরাই, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলার ফসলি জমি ও বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড ও রাঙ্গুনিয়ায় একজন করে এবং চট্টগ্রাম মহানগরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং নতুন করে আরও অনেক বাসিন্দা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন

৪২ বছরের রেকর্ড বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল চট্টগ্রাম

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মহানগর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের জন্য জেলায় এ পর্যন্ত ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের মধ্যে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, কেক, গুড় ও স্যালাইনসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এমডিআইএইচ/এমএএইচ/