বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখানোর অভিযোগে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং তাঁর এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এসএসসি ২০২৬ সালের সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা একজন পরীক্ষক নিজে না দেখে তাঁর এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভিডিওতে খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যাওয়া তরুণটি ওই বিদ্যালয়েরই ছাত্র মেহেদী হাসান।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন চরম গাফিলতির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।
ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশনার পর, গতকাল শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং ছাত্র মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা পর গতকাল রাতে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং ছাত্র মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








