প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান সংলাপে বসতে প্রস্তুত। তবে, দেশের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে-এমন কোনো দাবি মেনে নেবে না তেহরান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক বিভাজন ঠেকানো জরুরি।

এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী(আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের তৈরি চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সামরিক ও গণমাধ্যমের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই ‘পরাজয়’ উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সাংবাদিকরা। যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতা এখন বিদেশি গণমাধ্যমও স্বীকার করছে।

আরও পড়ুন

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস / ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উৎকণ্ঠা!

আইআরজিসি’র দাবি, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’, পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এবং দেশটির আধিপত্যের স্পষ্ট পতনের নতুন দিকগুলো সামনে এনেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি লিখেছেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক শক্তির সামনে নিজেদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিমরা যখন ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায় তখন দুষ্কৃতিকারী বহিরাগতদের সৃষ্ট যে কোনো চ্যালেঞ্জ আমরা সরাসরি মোকাবিলা করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এখন সময় শুধু নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে গ্রহণ করার।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব মন্তব্য করেন আরাঘচি। সংঘাত চলাকালে ইরানের ভূখণ্ডে হামলার জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ এর বাইরেও বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

সূত্র: ইরনা/মেহের নিউজ এজেন্সি

কেএম