কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে কোমর ও গলায় দড়ি বেঁধে থানা এলাকায় ঘুরিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। পরে স্থানীয় জনতা তাকে দৌলতপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজনের একটি ব্যাগ নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তার কোমর ও গলায় দড়ি বেঁধে থানা এলাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দড়ি বাঁধা অবস্থায় ওই যুবককে একজন ব্যক্তি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার পেছনে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি হাঁটছেন এবং আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আটক যুবকের নাম সাগর হোসেন (৩০)। তিনি দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দৌলতপুর থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। পরে শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিংকন বলেন, ‘সাগর একজন পেশাদার চোর। স্থানীয় লোকজন তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘ওই যুবককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তাকে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর বিষয়টি আমার জানা নেই।’

আল-মামুন সাগর/এসআর