এক মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) অবশেষে তাদের মূল দাবি আদায় করেই ছাড়ল। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দিতে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।সম্প্রতি ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ব্যাপক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির আন্দোলন গতি পায়।গত ২০ জুলাই সিজেপির ডাকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটি ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।এর আগে দুই দফা আলোচনা হলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করেই সিজেপি ও কেন্দ্রের মধ্যকার আলোচনা থমকে গিয়েছিল। শনিবার সকালে সিজিপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরকার যদি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করে, তবে কোনো আলোচনা হতে পারে না।পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়ে এক্সে দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং তাদের ন্যায়সংগত প্রত্যাশাকে গভীর সম্মান করি। প্রথম দিন থেকেই আমি এই পরিস্থিতির (পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস) দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছি।’তিনি বলেন, গত ৩ মে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম দেখা দেওয়ার পর সরকার অবিলম্বে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়।বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংকল্প ছিল যে পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না। কিন্তু এই সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা অনেক ব্যক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, যা আমার মনকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।’সিজেপি আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এ ছাড়া তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল।শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ ঘিরে এখন ভারতজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনের মুখে মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে দেখে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ এই সিদ্ধান্তকে তাদের দাবি আদায়ের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।