দেশের সিএমএসএমই শিল্প খাতের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও এহতেশাম হক খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক।

ডিবিবিএলের বিশাল এটিএম, সিআরএম ও ‘রকেট’ নেটওয়ার্ক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ আরও সহজ করতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে?

এহতেশাম হক খান: ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ডিজিটাল অবকাঠামো—সিআরএম, এটিএম, রকেট, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং নেক্সাস পে সিএমএসএমই গ্রাহকদের দ্রুত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করছে। বর্তমানে আমাদের ২৪৩টি শাখা, ৩৪৪টি উপশাখা, ৬,৩২৯টি সিআরএম ও এটিএম এবং ৫,৬৩৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। রকেট, নেক্সাস পে-সহ আমাদের ৬ কোটি ৫৮ লাখের বেশি গ্রাহকভিত্তি একটি শক্তিশালী আর্থিক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। আমরা এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যেখানে ঋণের আবেদন, তথ্য যাচাই, ক্রেডিট মূল্যায়ন ও কিস্তি পরিশোধের অনেকাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। 

ঋণের আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত সময় বা জটিলতা কমাতে আপনারা কী ধরনের ডিজিটাল লোন প্রসেসিং ব্যবস্থা চালু করেছেন?

এহতেশাম হক খান: একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এসএমই অর্থায়নে প্রযুক্তিনির্ভর ডকুমেন্টেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (ডিএসএস)–ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণের আবেদন, তথ্য যাচাই, ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট এবং অনুমোদনের ধাপগুলো এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও দ্রুত হচ্ছে। এর ফলে কাগজনির্ভরতা কমেছে এবং সময় কমেছে। ভবিষ্যতে আমরা এআই এবং অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে এই অর্থায়নকে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণসেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এ ক্ষেত্রে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এহতেশাম হক খান: আমরা ছোট উদ্যোক্তাদের অর্থায়নকে শুধু ব্যবসায়িক সুযোগ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি মনে করি। অনেকে এই খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল মনে করলেও প্রযুক্তির অগ্রগতি এ ধারণা বদলে দিচ্ছে। ডেটা-ড্রিভেন ডিসিশন মেকিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট আমাদের মূল্যায়নকে আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক করেছে। সঠিক প্রযুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সিএমএসএমই খাতেও যে টেকসই ও লাভজনক ব্যাংকিং সম্ভব, আমরা সেটিই প্রমাণ করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল ও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

এহতেশাম হক খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিল, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম (সিজিএস), ক্লাস্টার ফাইন্যান্সিং ও স্টার্টআপ ফান্ডের বাস্তবায়নে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি। আমাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও রকেটের মাধ্যমে এই সুবিধা বড় শহরের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উন্নয়নে আমরা ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য (ওভিওপি)’ উদ্যোগের অধীনে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।

নারী, তরুণ এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন’ এসএমই খাতের বিকাশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কী ধরনের বিশেষায়িত সেবা দিচ্ছে?

এহতেশাম হক খান: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি রেটিংয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দেশের অন্যতম শীর্ষ টেকসই ব্যাংক। আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশেষ অর্থায়ন করছি। তরুণদের জন্য আমাদের রয়েছে ‘অংকুর’ স্টার্টআপ ফান্ড এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এসআইসিআইপির অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের বিশেষায়িত ঋণপণ্য ‘সফলতা’ ও ‘উৎসাহ’-এর আওতায় বার্ষিক মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ক্যাশ ক্রেডিট ও টার্ম লোনসুবিধা দেওয়া হচ্ছে।