বিশ্ব এসএমই দিবস উপলক্ষে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি ব্যাংক এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে ঋণসুবিধা দেওয়ার কোনো নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে কি?

মাসরুর আরেফিন: ২০২১ সালে আমাদের চালু করা ‘ডিজিটাল ন্যানো লোন’-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা পাইলট পর্যায়ে নিয়ে এসেছি ‘ডিজিটাল এসএমই লোন’। এর আওতাভুক্ত ট্রেড লাইসেন্সধারী এমএফএস এজেন্ট ও মার্চেন্টরা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন প্রক্রিয়ায় মাত্র কয়েক মিনিটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি এজেন্ট এই সুবিধা পেয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে সব ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী এর আওতায় আসবেন।

সাপ্লাই চেইন ফিন্যান্সিংয়ে সিটি ব্যাংকের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। এসএমই খাতের করপোরেট লিংকেজ ও বাজারজাতকরণ বাড়াতে এটি কীভাবে কাজ করছে?

মাসরুর আরেফিন: আমরা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অ্যাঙ্কর’ হিসেবে যুক্ত করে তাদের ডিলারদের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটালি ডিস্ট্রিবিউটর ঋণ দিচ্ছি। এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪৮ জনের বেশি ডিস্ট্রিবিউটরকে ৩২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেমি-আরবান ও প্রান্তিক এলাকার মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরাসরি আমদানির সুবিধার্থে ৫০টির বেশি শাখার মাধ্যমে আমরা ‘ছোট এলসি’ সুবিধা চালু করেছি। এর ফলে ছোট উদ্যোক্তারা সরাসরি লেটার অব ক্রেডিট খুলে সাপ্লাই চেইনের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন।

বাজেটে ঘোষিত বিশেষ তহবিল বিতরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ আপনাদের জন্য কেমন দেখছেন?

মাসরুর আরেফিন: দেশব্যাপী বিস্তৃত ব্যাংক নেটওয়ার্ক ছাড়া তা তৃণমূলের দোরগোড়ায় তহবিলের অর্থ পৌঁছানো সম্ভব নয়। সিটি ব্যাংক দেশব্যাপী শাখা, উপশাখা এবং ৪৯৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে এই বিশেষ তহবিল সাশ্রয়ী সুদে প্রকৃত প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

শহরের বাইরে সেমি-আরবান বা গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে সিটি ব্যাংকের বর্তমান এসএমই কৌশল কী?

মাসরুর আরেফিন: আমরা দেশজুড়ে ৪৯৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৩৩টি ডেডিকেটেড এসএমই ইউনিট অফিসের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ঋণসুবিধা দিচ্ছি। কৃষকদের জন্য অ্যাগ্রিগেটরের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রান্তিক নারীদের আয়-উৎস তৈরিতে ‘রেমিট্যান্স বেনেফিশিয়ারি ঋণ’ চালু করেছি, যার ৮০ শতাংশ গ্রাহকই নারী। এ ছাড়া গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ব্যাংক স্টেটমেন্টের পাশাপাশি শুধু ব্যবসার নথিপত্র ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করেই ঋণ দিচ্ছি।

প্রান্তিক বা কটেজ খাতের জন্য আলাদা কোটা নির্ধারণের বিষয়ে আপনার মতামত কী?

মাসরুর আরেফিন: দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প-ইউনিট সিএমএসএমই হলেও বড় ঋণগুলো মাঝারিরাই পায়, ফলে কটেজ ও প্রান্তিক খাত প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের সংকটে পড়ে। সিটি ব্যাংক ইতিমধ্যে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনে কাজ করছে। আমাদের কটেজ ও ক্ষুদ্রঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশই জামানত ছাড়া দেওয়া হয়। এর ২৬ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রায় সিটি ব্যাংক কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে?

মাসরুর আরেফিন: আমরা শুধু পুঁজি নয়, ‘সমন্বিত মেন্টরশিপ মডেল’ নিয়ে কাজ করছি। এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এসআইসিআইপি প্রোগ্রামের আওতায় আমরা দেশব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমাদের ‘সিটি আলো’ ও ‘উঠান বৈঠক’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল আর্থিক শিক্ষা পেয়েছেন।