দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি সিএমএসএমই শিল্প খাত। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন, সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট ঘোষণা, নতুন তহবিল বিতরণ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নানা দিক নিয়ে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইএমও মো. মোস্তাক আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক।
বাজেটে এসএমই খাতের বরাদ্দ প্রকৃত ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আপনাদের কৌশল কী?
মো. মোস্তাক আহমেদ: এই তহবিল বাস্তবায়নে ঢাকা ব্যাংক দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তার শাখা ও উপশাখা নেটওয়ার্ক, রিলেশনশিপ ব্যাংকিং এবং সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় গিয়ে ঋণের প্রকৃত চাহিদা যাচাই করছেন; যাতে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য কাগজের আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে একদম সহজ ও দ্রুততম সময়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
নথির অভাবে ৬০% উদ্যোক্তা ঋণসুবিধার বাইরে আছেন। এ ক্ষেত্রে ‘ডিজি-ঋণ’ প্ল্যাটফর্ম কতটা সময় ও জটিলতা কমাবে?
মো. মোস্তাক আহমেদ: প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে আমাদের ‘ডিজি-ঋণ’ প্ল্যাটফর্মটি সহায়ক হয়েছে। এখানে প্রথাগত বিশাল কাগজের ফাইলের বদলে ডিজিটাল কেওয়াইসি এবং বিকল্প ডেটা স্কোরিং ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ইনল্যান্ড ডকুমেন্টারি বিল পারচেজের জন্য আমরা এনেছি ‘ই-ল্যান্ডিং’। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণের জন্য ‘ই-ঋণ’, সার্বক্ষণিক বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার জন্য ‘সেল্ফ ব্যাংকিং’ এবং সহজে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য ‘ইজি ব্যাংক’ অ্যাপের মতো ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে ঢাকা ব্যাংক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমেও আমরা দ্রুততম সময়ে ঋণ দিচ্ছি।
নতুন তহবিল বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে আপনাদের আঞ্চলিক ক্লাস্টারভিত্তিক পরিকল্পনা কী?
মো. মোস্তাক আহমেদ: ঢাকা ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে এসএমই ফাউন্ডেশনের ঘূর্ণমান তহবিলের সফল অংশীদার। নতুন বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ক্লাস্টার চিহ্নিতকরণ, যৌথ মেলা ও সেমিনার আয়োজন, আঞ্চলিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও ডেডিকেটেড সিএমএসএমই ডেস্ক স্থাপন।
আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষায়িত ক্লাস্টারসমূহ নিয়ে কাজ করছি। যেমন রাজশাহীর কালুহাতির জুতাশিল্প ও ফার্নিচারশিল্প, বগুড়ার মোকামতলার মৃৎশিল্প ও কৃষি যন্ত্রপাতি, ভৈরব ও টঙ্গীর জুতা-চামড়াজাত পণ্য এবং নরসিংদীর তাঁতশিল্প। আঞ্চলিক পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে আমরা স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স ও এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ‘ঢাকা ব্যাংক স্টার্ট আপ ফান্ড’ কীভাবে অবদান রাখবে?
মো. মোস্তাক আহমেদ: ঢাকা ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এসআইসিআইপি প্রোগ্রামের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। উদ্ভাবনী আইডিয়া আছে কিন্তু পুঁজি নেই, এমন তরুণদের আমরা জামানত ছাড়াই প্রাথমিক তহবিল বা ইকুইটি সাপোর্ট দিচ্ছি। শুধু অর্থায়নই নয়; নতুন ব্যবসা পরিচালনা, আইনি প্রক্রিয়া ও অ্যাকাউন্টস রাখার বিষয়েও আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।
নতুন অর্থবছরে নারী উদ্যোক্তাদের সহজ ও জামানতবিহীন ঋণ দিতে আপনাদের বিশেষ কী কী স্কিম থাকবে?
মো. মোস্তাক আহমেদ: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের ‘অদ্বিতীয়া’ নামে একটি বিশেষায়িত ঋণ প্রোডাক্ট রয়েছে। এর আওতায় অত্যন্ত কম সুদে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ জামানতবিহীন কোলেটারাল–ফ্রি ঋণসুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা থিতু হওয়ার জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা রেয়াতকাল সুবিধা দিচ্ছি।







