কুমিল্লার চান্দিনায় রাতের অন্ধকারে দরজা ভেঙে এক সিএনজি অটোরিকশার চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ওই ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে গিয়ে মুহূর্তেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পুলিশ তার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের নাওতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ আলী চান্দিনার নাওতলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মাধাইয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় মোহাম্মদ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান আহত হয়।

সরেজমিন জানা যায়, শনিবার রাতে চান্দিনার নাওতলা গ্রামের হাজী শাহ আলমের বাড়িতে যান চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। তারা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি পরিচয় জানতে চান। পুলিশ তখনও নিজেদের পরিচয় দেয়নি। এ সময় মোহাম্মদ আলী ফেসবুক লাইভে ঘটনা দেখাতে থাকেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ’আপনারা আসলে কাকে ধরতে এসেছেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে এক পুলিশ সদস্য জানান, ’আমরা মোহাম্মদ আলীর কাছে এসেছি’। পুলিশ তখন দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেছে। ফেসবুক লাইভে থাকা মোহাম্মদ আলী বলেন, ’আপনারা আমাকে ধরতে এলে দরজা ভাঙতে হবে না, আমি নিজেই বের হবো।’ এরই মধ্যে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শোনা যায়।

মোহাম্মদ আলীর মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, পুলিশ দরজা ভেঙে আমার বাবাকে ধরতে আসে। পুলিশ আমার বাবা ও ভাইকে মারধর করে। এ বিষয়ে জানতে চান্দিনা থানার এসআই এনামূলকে ফোন করলে তিনি ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন। ওসি আতিকুর রহমান জানান, দরজা ভেঙে আসামি আটক করার আইন আছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।