ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা পূরণে বিভিন্ন দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১৫ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ-সংক্রান্ত ১৫টি পৃথক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এসব প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকা। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয় কম বা বেশি হতে পারে।
সূত্রটি জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাদের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করে। পরে পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞ কমিটি যাচাই-বাছাই ও দরকষাকষির মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো গ্রহণযোগ্য বলে মত দেয়।
আরও পড়ুন
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেই আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে যেন কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় একক চালান হিসেবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন করে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি চালানের মূল্য নির্ধারণ করা হবে জাহাজে পণ্যবোঝাইয়ের তারিখে আরব উপসাগরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যসূচকে প্রকাশিত দামের ভিত্তিতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
এর মধ্যে ওমানভিত্তিক এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভারেন্স টেকনোলজিস এলএলসি থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
নাইজেরিয়াভিত্তিক প্যাসিফিক সিলভারলাইন লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন পঞ্চাশ পিপিএম ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২২৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, দেশীয় উৎপাদনে জোর দিচ্ছে সরকার
যুক্তরাজ্যভিত্তিক একেএ এনার্জি লিমিটেড থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ১৭০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক টোটাল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৮৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিটিজামান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক এইটিন সল্যুশনস এসডিএন বিহেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
ডেনমার্কভিত্তিক ইমপোরতাসিওনেস ব্রাভো গ্রুপ-চিলে এসপিএ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক রয়্যাল বাবজি ফুয়েল ট্রেডিং এলএলসি থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন পঞ্চাশ পিপিএম ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
হংকংভিত্তিক সাইনোপ্রাউড আমদানি ও রপ্তানি করপোরেশন লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী / দেশে ৫টি কয়লাক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে, উৎপাদনে শুধু বড়পুকুরিয়া
সিঙ্গাপুরভিত্তিক হেলথ আইকন ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ৯৩৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
কাজাখস্তানভিত্তিক কুমারাঙ্গাজি অয়েল ফিল্ড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ৯৩৬ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
কাজাখস্তানভিত্তিক এইচ-টু-ও পেট্রোকেম ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৯০ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা, শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং পরিবহন ও কৃষিখাতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক এইচ-টু-ও কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৩৯৭ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
দুবাইভিত্তিক ব্ল্যাক সোয়ান গ্লোবাল এফজেডসিও থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন
জ্বালানি সংকটেও স্পেনে বিদ্যুৎ বিল কমলো যেভাবে
স্পেনভিত্তিক ওকেরিয়েল করপোরেশন থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৪০০ কোটি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সূত্রটি জানিয়েছে, প্রতিটি চালানের মূল্য নির্ধারণ করা হবে জাহাজে পণ্য বোঝাইয়ের তারিখে আরব উপসাগরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যসূচকে প্রকাশিত দামের ভিত্তিতে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা, শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং পরিবহন ও কৃষিখাতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
আরও পড়ুন
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আমদানি নীতিগত অনুমোদন মিললে, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি করা হবে।
এমএএস/এমআইএইচএস//এমএফএ








