প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

গত ১৩ জুলাই রাতে (বাংলাদেশ সময়) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) হাই-লেভেল সেগমেন্টের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার সফরসঙ্গী হিসেবে সঙ্গে আছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান, ফুটওয়্যার লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হলেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

এ সফরে তারা এলডিসি এবং বাণিজ্য বিষয়ে বিভন্ন সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গ বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পাঁচ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-

১. ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পর্যাপ্ত ও স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করা;

২. এলডিসিুভুক্ত দেশের জন্য কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় সহজ শর্তে ঋণ, ঋণ পরিশোধে স্থগিত সুবিধা এবং টেকসই ঋণ সমাধানের ব্যবস্থা করা;

৩. অভিযোজন, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এ সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করা;

৪. এলডিসিভুক্ত দেশের জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং

৫. শুল্ক সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত ব্যবধান দূর করতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন, যেন স্বল্পোন্নত দেশগুলো উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে তাদের টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, এসব সংকট শুধু ২০৩০ এজেন্ডার বাস্তবায়নই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং তাদের ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও বৈশ্বিক অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন দরকার।

উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত সময় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, সুষ্ঠু উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য।

সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। এ সময়ে তিনি জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি, আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধিসহ কয়েকজন ব্যক্তি ও টিমের সঙ্গে মিটিংয়ে অংশ নেবেন।

এনএইচ/এমকেআর