কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মকবুল হোসেন (৫৫) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহত মকবুল হোসেন দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের এশিয়া প্রজেক্ট পাড় এলাকার মৃত আক্কু মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কুশিয়ারা গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মকবুল হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষের লোকজন দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মকবুল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে মকবুলসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন। আহতরা হলেন ইমরান হোসেন, মিনু আক্তার, তানজিনা আক্তার ও লামিয়া আক্তার।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। মকবুল হোসেনসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ঢাকায় পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুল হোসেন মারা যান।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারী বলেন, `মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।'
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।








