বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে ও বদলি ব্র্যাডলি বারকোলার টানা দুই গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
বিরতির পর চারটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। আক্রমণে নামানো হয় উসমান ডেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলাকে। রক্ষণে থিও হার্নান্দেজ ও ইব্রাহিমা কোনাতের জায়গায় নামেন লুকা দিনিয়ে ও দায়ো উপামেকানো। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও একটি পরিবর্তন এনে মার্কাস রাশফোর্ডের বদলে মাঠে নামায় অলি ওয়াটকিনসকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটেই তার ফল পেয়ে যায় লে ব্লুরা। মাঝমাঠে ওয়াটকিনসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণ শুরু করেন উপামেকানো। বল পেয়ে মাইকেল ওলিসে নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপের উদ্দেশে। ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেদ করে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
টুর্নামেন্টে নিজের নবম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে যান ফরাসি অধিনায়ক। একই সঙ্গে ওলিসে তুলে নেন বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ অ্যাসিস্ট, যা ১৯৭০ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডে তাকে পেলের পাশে বসিয়েছে।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে ওঠে। ৫৪ মিনিটে এবেরেচি এজে একক নৈপুণ্যে উপামেকানোকে কাটিয়ে অনেক দূর থেকে মেনিয়াঁকে লক্ষ্য করে লব শট নিলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
এর পরের মিনিটেই আবার আঘাত হানে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে এমবাপের চমৎকার পাস ধরে বক্সে ঢুকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বদলি ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। ম্যাচে নেমেই গোল করে ফরাসিদের প্রত্যাবর্তনের আশা আরও উজ্জ্বল করে তোলেন তিনি।
৬৬ মিনিটে এমবাপের গোলটি ছিল চোখ ধাঁধানো। অলিসের সঙ্গে দ্রুত ও নিখুঁত ওয়ান-টু পাসের পর বক্সের কিনারা থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল নিচের কর্নারে পাঠিয়ে দেন তিনি। ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, এটি এমন একটি গোল, যা যেকোনো বড় ম্যাচের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ৪-০ থেকে ব্যবধান ৪-২-এ নামিয়ে আনে ফ্রান্স। এরপর ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান নামিয়ে আনে ৪-৩ এ।
তবে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক নেন বুকায়ো সাকা। তার বুদ্ধিদীপ্ত শট জড়িয়ে যায় ফ্রান্সের জালে। ইংল্যান্ডেরও ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ালো ৫-৩ এ।
আইএইচএস/








