মিসরের বিপক্ষে এক রাতেই লিওনেল মেসি যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, তাঁর ক্যারিয়ারের প্রতিটি বড় ম্যাচই নতুন কোনো গল্প লিখে যায়। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট, এরপর নিজেই সমতাসূচক গোল—আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অন্যতম নায়ক হয়েই শেষ করেন ম্যাচ। আর সেই সঙ্গে গড়ে ফেলেন একের পর এক রেকর্ড।
মিসরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়ে গেছেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড আরও বড় করেছেন তিনি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ১৯টি।
শুধু গোলই নয়, রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যাও ৯-এ নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ছাড়িয়ে গেছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার ৮ অ্যাসিস্টকে।
চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন তিনি। ৭ গোল নিয়ে তাঁর পেছনে আছেন আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন মেসি।
আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে ও এবার মিসরের বিপক্ষেও জালের দেখা পেলেন তিনি।
মিসরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ষষ্ঠ ম্যাচেও গোল করার নজির গড়েছেন মেসি। এর আগে ব্রাজিলের লিওনিদাস দা সিলভা ও ভাভা এবং হাঙ্গেরির জর্জ সারোসি টানা পাঁচটি নকআউট ম্যাচে গোল করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বয়সও যেন মেসির সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ১৫, যা আর কোনো ফুটবলারের নেই। শুধু তা-ই নয়, মিসরের বিপক্ষে একই ম্যাচে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে এই কীর্তি গড়া খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল সুইডেনের নিলস লিডহোমের দখলে, যিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ৩৫ বছর বয়সে একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছিলেন।








