বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিদায়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে মিশরকে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও মাত্র ১৩ মিনিটের নাটকে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। তবে ম্যাচ শেষে শুধু পরাজয়ের হতাশাই নয়, রেফারিং নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেখা যায়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে জিকোর করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সহায়তায় বাতিল করে দেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করছেন মিশর শিবির।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছিল মিশর। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান ২-০ করেন জিকো। এমনকি এর আগে লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেয় মিশরের রক্ষণ।

তবে কিছুক্ষণ পরই জিকোর আরেকটি গোল বাতিল করে দেওয়া হয়। রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, গোলের আগে বিল্ডআপে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল করেছিলেন। ভিএআর-এর পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন লেতেক্সিয়ের।

এরপর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায়। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

ম্যাচ শেষে হতাশ জিকো রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন, ‘রেফারিং ছিল জঘন্য, তারা নিরপেক্ষ ছিলেন না। এটা পরিষ্কারভাবেই বোঝা গেছে যে তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন না। আমরা শুরু থেকেই অসাধারণ খেলছিলাম। পুরো দল নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও এভাবে হার মেনে নেওয়া খুব কঠিন। এই বিশ্বকাপ সাজানো ছিল। এখন শুধু আল্লাহই আমাদের সাহায্য করতে পারেন।’

জিকোর এমন মন্তব্য ইতোমধ্যেই ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় মিশরের অভিযান শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে নাটকীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী।

আইএইচএস/আইএন