ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি অন্য মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়ায় না। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে যদি এডিস মশা কামড়ায়, সেই মশা পরে অন্য কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাড়িতে একজন ডেঙ্গু রোগী থাকলে শুধু তার চিকিৎসাই নয়, ঘরের মশা নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
রোগীকে সব সময় মশারির ভেতরে রাখুন
ডেঙ্গু রোগীকে যতটা সম্ভব মশারির ভেতরে বিশ্রাম নিতে দিন। বিশেষ করে জ্বরের প্রথম কয়েক দিন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে এডিস মশা রোগীকে কামড়াতে পারবে না এবং ভাইরাস অন্য মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে। দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা উচিত, কারণ এডিস মশা মূলত সকাল ও বিকেলে বেশি সক্রিয় থাকে।
আরও পড়ুন
প্রতিদিন ১০ মিনিটের অভ্যাসেই কমতে পারে ডেঙ্গুর ঝুঁকি
ঘরে মশা ঢোকার পথ বন্ধ করুন
জানালা ও দরজায় মশা প্রতিরোধী জালি ব্যবহার করুন। সন্ধ্যার আগে দরজা-জানালা বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন। প্রয়োজনে মশা প্রতিরোধে নিরাপদ রিপেলেন্ট, বৈদ্যুতিক মশা তাড়ানোর যন্ত্র বা কয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শিশু, বয়স্ক বা শ্বাসকষ্টের রোগী থাকলে এসব ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন
এডিস মশা পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির বারান্দা, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, টবের নিচের ট্রে, পুরোনো টায়ার কিংবা ফ্রিজের ট্রেতে কোথাও পানি জমে আছে কি না প্রতিদিন পরীক্ষা করুন। জমে থাকা পানি ফেলে দিন এবং পাত্রগুলো পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখুন।
ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন
মশা অন্ধকার ও আর্দ্র স্থানে বিশ্রাম নিতে পছন্দ করে। তাই পর্দার পেছন, খাটের নিচে, আলমারির কোণা বা স্টোররুম নিয়মিত পরিষ্কার করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে না রেখে ঘর পরিচ্ছন্ন রাখলে মশার লুকিয়ে থাকার জায়গা কমে যায়।
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় করণীয়
পরিবারের সবাই সতর্ক থাকুন
ডেঙ্গু রোগী থাকলে শুধু রোগী নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে ফুলহাতা জামা, লম্বা প্যান্ট পরুন এবং বাইরে গেলে মশা প্রতিরোধী রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করা উচিত।
দিনের বেলাতেও সতর্ক থাকুন
অনেকে মনে করেন শুধু রাতে মশা থেকে বাঁচলেই যথেষ্ট। কিন্তু ডেঙ্গু ছড়ানো এডিস মশা দিনের বেলায় বেশি কামড়ায়। তাই দিনের সময়ও মশারি ব্যবহার, জানালা বন্ধ রাখা এবং মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে রাখলে কী হয় জানেন?
প্রতিবেশীকেও সচেতন করুন
একটি বাড়িতে মশা নিয়ন্ত্রণ করলেই যথেষ্ট নয়। আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে সেখান থেকেও এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই প্রতিবেশীদেরও বাড়ি ও ছাদ পরিষ্কার রাখতে উৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
রোগীর যত্নের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল পানীয় গ্রহণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর কমে গেলেও যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা রক্তক্ষরণের মতো সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
আরও পড়ুন
মাছের কাঁটা খেলে শরীরে কী ঘটে
ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ করা এবং মশার কামড় এড়িয়ে চলা। বাড়িতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপদ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক
এসএকেওয়াই








