ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দুই জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জনে, মৃতের সংখ্যা ৩০ জনে।বুধবার (১৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ১৬০ জন, চট্টগ্রামে ৫৩ জন, খুলনায় ৭২ জন, বরিশালে ৭০ জন, ময়মনসিংহে ১৬ জন, রাজশাহীতে ১২ জন, রংপুরে ৬ জন ও সিলেটে ২ জন।ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসচেতনতার অভাবের কারণে এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুর জন্য দায়ী প্রধানত এডিস এজিপ্টি এবং এডিস এলবোটিক্টাস প্রজাতির মশা। এগুলো সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সময় মানুষকে কামড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুবাহী মশা রাতের বেলায়ও কামড়াতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে—ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, ফ্রিজের ট্রে, এসির পানির জমানো স্থানগুলোতে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অভাবে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে, যা মশার বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করে।সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
অপরাধ
ডেঙ্গুতে একদিনে মৃত্যু ২, আক্রান্ত ৩৯১

শেয়ার করুন







