কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি মানবিক সহায়তার উপকারভোগীর তালিকায় নিজের স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে আলোচিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলমকে বদলি করা হয়েছে। ‘প্রণোদনার তালিকায় কর্মকর্তার স্ত্রী-স্বজন! কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার যুগান্তর-এ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আসে। তার হস্তক্ষেপের পর শাহীনুর আলমকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়। ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমদ খান স্বাক্ষরিত আদেশে আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এর আগে রোববার পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের বঞ্চিত কৃষকরা ডেপুটি স্পিকার, ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন কৃষক অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৩২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সরকারি প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পোগলা ইউনিয়নে উপকারভোগী ছিলেন ৬৮৭ জন। অভিযোগ রয়েছে-১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তালিকা থেকে শাহীনুর আলমের স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, যুগান্তর-এ প্রকাশিত সংবাদটি নজরে আসার পর তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছেই পৌঁছে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।