বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর চরম জনরোষের মুখে পড়েতে যাচ্ছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দল। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কোচ নির্বাচন নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার রূপ নিয়েছে গণঅসন্তোষে।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে কোচ ও ফেডারেশন কর্মকর্তারা দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে তাদের লক্ষ্য করে ডিম ও ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান মিষ্টি ছুড়ে মারার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা। এমন পরিস্থিতিতে দল ও কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় ইনচিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ান ফুটবলে এটি অবশ্য নতুন কোনো চিত্র নয়। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপেও দল ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরলে দলকে বিমানবন্দরে সমর্থকদের চরম অপমান ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ‘এ’ গ্রুপে। চেকিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় দিয়ে শুরু করলেও মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিশ্চিত ফেবারিট ছিল কোরিয়ানরা। কিন্তু কোচ হং মিউং বো ‘চালাকি’ করতে গিয়ে দলের সেরা তারকা সন হিউং মিনকে বসিয়ে রাখে প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামালেও কোনো কাজে আসেনি কোচের পরিকল্পনা। উল্টো ১-০ গোলে হেরে যেতে হয়েছে।
তবুও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আশা ছিল কোরিয়ার। সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী একটি দলের মধ্যে থাকতে পারে কি না; কিন্তু কোনো লাভ হলো না, তৃতীয়স্থান অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে ১০ম হয়েছে তারা এবং বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে যায় গ্রুপ পর্ব থেকে।
কোরিয়ান সংস্কৃতিতে জনসমক্ষে ক্যান্ডি কিংবা ডিম ছুড়ে মারাকে চরম লজ্জাজনক ও অপমানসূচক প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবারও সমর্থকরা সেই একই ধরণের ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানবন্দরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের থেকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দূরে রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হলে গণমাধ্যম ও সাধারণ টার্মিনাল এড়াতে বিকল্প ও গোপন এক্সিট রুট ব্যবহারের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ডিম বা মিষ্টির আঘাত নয়, বরং দেশে ফেরার পর মিডিয়ার তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এবং দেশজুড়ে যে তীব্র সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কা রয়েছে সেটিই এখন কোরিয়ান ফুটবল কর্মকর্তা ও কোচের জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র জনরোষের এই আবহে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দল কিভাবে দেশে পা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আরআই/আইএইচএস/








