২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামলেও এখনও ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরাটা দেখাতে পারছেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ। বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে তার পারফরম্যান্স রেটিংও (৪.৫) ছিল হতাশাজনক, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে- রোনালদোকে কি এবার বেঞ্চে বসানোর সময় এসেছে?

তবে সমালোচনার এই ঝড়েও পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ একটুও নড়েননি। তার দাবি, রোনালদোকে খেলানো আবেগের সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের কৌশল ও পারফরম্যান্স ডেটার ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া। মার্তিনেজ স্পষ্ট করে বলেছেন, রোনালদোর শারীরিক বা মানসিক ফিটনেস নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তাই শুধু একটি খারাপ ম্যাচের কারণে তাকে বেঞ্চে বসানোর প্রশ্নই ওঠে না।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ পাশে দাঁড়িয়েছেন রোনালদোর। তাকে কেন পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রেখেছিলেন তার ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো এমন একজন খেলোয়াড়, যে প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে অনেক ম্যুভমেন্ট করেছে। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো বাকি ১০ জনের সঙ্গে তার চলাফেরা ও সমন্বয় ঠিক রাখা। এটি দল হিসেবে উন্নতির একটি অংশ। ক্রিশ্চিয়ানো খুব ভালো শারীরিক অবস্থায় আছে। আমরা ম্যাচ চলাকালীনই তার শারীরিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করি এবং সে খুব, খুব ভালো অবস্থায় ছিল। এখন আমাদের চারদিন বিশ্রামের সুযোগ রয়েছে এবং আমরা সব খেলোয়াড়কেই একইভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য ভিন্ন মত পোষণ করছেন। সাবেক ফ্রান্স তারকা থিয়েরি অঁরি মনে করেন, বর্তমানে রোনালদো অনেক সময় দলের আক্রমণকে নিজের দিকে টেনে আনেন, ফলে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা কিংবা হোয়াও ফেলিক্সদের স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব পড়ে।

সাবেক ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং আরও একধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘পর্তুগাল তরুণ ফরোয়ার্ডদের নিয়ে শুরু করলে দল আরও গতিশীল হতে পারে। তার মতে, রোনালদোকে শেষ ১৫-২০ মিনিটের ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ হিসেবে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে।

তবে রোনালদোর পক্ষে যুক্তিও কম নয়। সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি মনে করেন, ‘গোল না করলেও রোনালদোর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখে, যা অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করে।’ কোচ রবার্তো মার্তিনেজও একই যুক্তিতে বিশ্বাসী। তার মতে, রোনালদোর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং বড় ম্যাচের মানসিকতা এখনও পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

সব মিলিয়ে পর্তুগাল শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক একটাই- বিশ্বকাপ জিততে কি রোনালদোর নামের চেয়ে বর্তমান ফর্মকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, নাকি নকআউট পর্বে অভিজ্ঞ অধিনায়কের ওপরই শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখবেন মার্তিনেজ? ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচেই হয়তো মিলবে সেই প্রশ্নের প্রথম উত্তর।

আইএইচএস/