শনিবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিটই খেলেছেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এর ফলে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ মিলিয়ে পুরো ২৭০ মিনিটই মাঠে ছিলেন তিনি।
এই ব্যাপারে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে প্রশ্ন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা লিওনেল মেসি এবং আর্লিং হালান্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। প্রশ্নকর্তার সাথে একমত হতে না পেরে মার্তিনেজ মন্তব্য করেন যে, রোনালদোর সঙ্গে মেসি কিংবা হালান্ডের তুলনা করাটা ‘শিশুসুলভ’। তার দাবি, রোনালদো মানসিক ও শারীরিকভাবে এমন অবস্থায় আছেন যে, বিশ্বকাপে দলের প্রতিটি মিনিট খেলতে পারেন।
অন্যদিকে নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা শেষ গ্রুপ ম্যাচে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড হালান্ড ও মেসিকে বিশ্রাম দিলেও, শুধু অন্য দলগুলো তা করেছে বলেই রোনালদোকেও বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না মার্তিনেজ। এ ব্যাপারে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমরা অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করি না। রোনালদোর সঙ্গে মেসি বা হলান্ডের তুলনা করা শিশুসুলভ হবে।’
মার্তিনেজ আরও যোগ করেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো সবসময় সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকতে অভ্যস্ত। তার খেলাটা শুধু শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না, মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা, পজিশন ধরে রাখা এবং আক্রমণে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করাও তার বড় শক্তি।’
মার্তিনেজের ভাষায়, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য ৯০ মিনিট খেলা কোনো সমস্যা নয়। তবে পরের ম্যাচে প্রয়োজন হলে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এটা শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়, অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও একই বিষয়।’
মার্তিনেজ জানান, গ্রুপ পর্বে ২১ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ব্যবহার করেছে পর্তুগাল। তাই দলের মধ্যে খেলার সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মার্তিনেজের ভাষায়, ‘ম্যাচ ও অনুশীলন থেকে পাওয়া সব ধরনের তথ্য আমরা পর্যবেক্ষণ করি। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের সুযোগ সবসময় থাকে। আজ যেমন জোয়াও নেভেস ও রুবেন নেভেসকে ৪৫ মিনিট করে খেলিয়েছি। একইভাবে দিয়োগো দালোত ও জোয়াও কানসেলোকেও ভাগ করে খেলানো হয়েছে। ভিন্ন পজিশনের খেলোয়াড়দের চাহিদাও ভিন্ন।’
কলম্বিয়াকে হারিয়ে হারিয়ে গ্রুপসেরা হতে পারেনি পর্তুগাল। রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে তাদের। এদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারায় শেষ ষোলোতে ইউরো ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পর্তুগালের। তবে মার্তিনেজের মতে, গ্রুপ পর্বের মূল লক্ষ্য ছিল নকআউট নিশ্চিত করা। এখন থেকেই শুরু হচ্ছে আসল বিশ্বকাপ।
মার্তিনেজের মতে, ‘বিশ্বকাপে কৌশলগতভাবে এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগেই বলেছিলাম, নিজেদের সেরা ছন্দে পৌঁছাতে এই তিনটি ম্যাচ প্রয়োজন ছিল। এই ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান। আমরা এই টুর্নামেন্টে আটটি ম্যাচ খেলতে চাই। এখন থেকে বিশ্বকাপ একেবারেই ভিন্ন এক প্রতিযোগিতা।’








