রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, জনসাধারণের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে ভূমিকা রাখা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হলেও, অতীতে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। মূলত ব্যক্তি, রাজনীতি ও দলগত স্বার্থে সংস্কৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমাদের দেশের সংস্কৃতির একটি নিজস্ব ও স্বাধীন অস্তিত্ব রয়েছে। ফলে এটি তার নিজস্ব অবয়ব ও অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়েই গড়ে উঠবে।

শ‌নিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী শিল্পকলা একাডে‌মিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মনসুর উল ক‌রিম এর ৭৬তম জন্মবা‌র্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে তি‌নি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশীয় সংস্কৃতিকে বিকশিত ও জনবান্ধব করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র যেমন- শিল্পকলা, লাইব্রেরি, জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ যা কিছু আছে, সবকিছুকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি বলতে যা বোঝায়, তা বাস্তবে রূপ দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রথমত, আমরা নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এর আওতায় বিদ্যমান আইন, বিধি-বিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপা‌শি সংস্কৃতির প্রসারে যে সকল অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং প্রশিক্ষণ, নিয়মিত প্র্যাকটিস ও অনুশীলনের মাধ্যমে শিল্পের প্রতিটি সেক্টরকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।

তি‌নি আরও বলেন, রাজবাড়ী জেলা শিল্প সাহিত্যের শহর। এখানে আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি, অ্যাক্রোবেটিক সেন্টার, কালচারাল সেন্টার এবং নতুন জাদুঘর স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমি চীন সফর করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের দেশে শিল্প-সাহিত্যের যে মেধা ও উপাদান রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কোনো অংশেই কম নয়। আমাদের মূল সমস্যা হলো এখানে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিয়মিত শিল্পের চর্চা নেই। অথচ নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখে চীন তাদের সংস্কৃতিকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। চীন সফর থেকে আমরা যে সব আইডিয়া ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলো দেশে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

এর আগে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে শিল্পী মনসুর উল ক‌রিম এর জন্মবা‌র্ষিকীর কর্মসু‌চির উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় চিত্রাঙ্কন প্রতিযো‌গিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।

এতে উপ‌স্থিত ছিলেন জেলা বিএন‌পির সাবেক সদস্য স‌চিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল, বিএন‌পি নেতা চৌধুরী আহসানুল ক‌রিম হিটু, আয়োজক কমি‌টির সভাপ‌তি ক‌বি খোকন মাহমুদ প্রমূখ।

রুবেলুর রহমান/এনএইচআর/এএসএম